তিন বছর তিন মাসের মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার, অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন এবং পরবর্তীতে নির্বাচিত বিএনপি সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করে এক অনন্য রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি টানলেন মো. সাহাবুদ্দিন। তবে তাঁর পুরো মেয়াদজুড়েই ছিল রাজনৈতিক বিতর্ক, সাংবিধানিক প্রশ্ন এবং আইনি আলোচনার ছায়া।
২০২৩ সালের ২৩ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক অতীত নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং পরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে নিরপেক্ষ সাংবিধানিক পদে তাঁর নিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে।
মনোনয়নের পর সাবেক দুদক কমিশনার হিসেবে রাষ্ট্রপতি পদে তাঁর নিয়োগের বৈধতা নিয়েও আইনি চ্যালেঞ্জ হয়। তবে হাইকোর্টের পূর্ববর্তী এক রায়ের আলোকে রাষ্ট্রপতির পদকে ‘লাভজনক পদ’ হিসেবে গণ্য না করায় সেই চ্যালেঞ্জ খারিজ হয়ে যায়।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তাঁকে অপসারণের দাবি জোরালো হলেও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার যুক্তিতে তিনি দায়িত্বে বহাল থাকেন। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠনের পরও তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।
তবে শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র নিয়ে তাঁর পরস্পরবিরোধী বক্তব্য নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করে। জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে পদত্যাগপত্র পাওয়ার কথা বললেও পরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তাঁর কাছে এর কোনো দালিলিক প্রমাণ নেই। এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গন ও বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
এদিকে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কেও টানাপড়েন তৈরি হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেকে ‘অপমানিত’ দাবি করে সরকারের সঙ্গে দূরত্বের কথা প্রকাশ করেন।
সবশেষে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তনের মধ্যেই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে বিদায় নেন মো. সাহাবুদ্দিন। তাঁর মেয়াদ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে দীর্ঘদিন আলোচিত থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।